ছয় ঋতুর বাংলাদেশে প্রতি বছর রূপের অপার ডালি নিয়ে আসে বসন্ত। আর যেসব ফুলের
অমল শোভায় বসন্ত উদ্যান নির্মল হেসে ওঠে তার মধ্যে অন্যতম কনকচাঁপা।
কনকচাঁপা (Ochna squarrosa) আমাদের কাছে নামে যতটা পরিচিত ততটাই অপরিচিত
অবয়বে। কারণ ফুলটি বেশ দুর্লভ। ঢাকায় আছে হাতেগোনা কয়েকটি গাছ।
বলধা গার্ডেনের সিবিলি অংশে একটি কনকচাঁপার গাছ ছিল, এখন নেই। সেই গাছটির চারা এনে শিশু একাডেমীর বাগানে লাগিয়েছিলেন নিসর্গী বিপ্রদাশ বড়ূয়া। আবার শিশু একাডেমীর গাছটির একটি চারা নিজের ঘরে কয়েক বছর সযত্নে লালন করে রমনা পার্কে রোপণ করেছিলেন অধ্যাপক
দ্বিজেন শর্মা। সেই সূত্রে রমনা পার্কের গাছটি বলধা গার্ডেনের গাছটির নাতনি। দ্বিজেন শর্মার লেখা থেকেই জানা যায়_ 'আমার টবে তো ওর ঘরসংসার হবে না, ওকে যথাস্থানে পাঠানো আবশ্যক। ফোন করলাম রমনা পার্কের অফিসে। তারা ঠাঁই দিতে রাজি।...... সবাই মিলে সেরা জায়গাটিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে চারাটি লাগানো হলো।'
কনকচাঁপা আমাদের অতি পুরনো ও প্রিয় ফুল। চমৎকার ও আকর্ষণীয় সৌন্দর্যে এটি নিসর্গের শোভা বৃদ্ধি করে। মূলত পাহাড়ি ফুল হলেও সমতলে দু'চারটি গাছ থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। শীতের রুক্ষতা অন্য সব গাছের মতো কনকচাঁপাকেও স্পর্শ করে। তখন গাছের সব পাতা ঝরে যায়। পাতাহীন ডালে কেবল শূন্যতার রোদন। বসন্তের শুরুতেই কনকচাঁপা যেন নতুনভাবে জেগে ওঠে। গাছের শাখা-প্রশাখা কচি তামাটে পাতায় ভরে ওঠে। গুচ্ছ গুচ্ছ কচি পাতা দখিনা বাতাসে দোল খায়। সেই সঙ্গে ফুটতে শুরু করে অসংখ্য ফুল। কুঁড়ির রহস্য ভেদ করে নতুন পাতার ফাঁকে ফাঁকে হেসে ওঠে উজ্জ্বল হলুদ রঙের ফুলগুলো। সারা গাছ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। কনকচাঁপার পাপড়িগুলো তখন যেন সোনা রঙের দ্যুতি ছড়ায়। তার সঙ্গে মিষ্টি সৌরভ ভেসে বেড়ায় বসন্তের আলুথালু বাতাসে। মধুর লোভে ছুটে বেড়ায় মৌমাছি ভোমরার দল। কনকচাঁপার অপূর্ব রূপ আর সুবাসে মোহিত হয়ে কবিগুরুর মতো আমরাও গেয়ে উঠি_ কনকচাঁপার গন্ধ-ছোঁওয়া বনের অন্ধকারে.........।
থোকায় থোকায় অজস্র ফুল ফুটলেও খুব বেশি দিন থাকে না। বসন্তের সি্নগ্ধ সকালে কনকচাঁপার অপার সৌন্দর্য আমাদের মোহিত করে। বেলা একটু গড়ালেই রৌদ্রতাপে নেতিয়ে পড়ে ফুলগুলো। বিকেলে গাছতলায় বসে ঝরা ফুলের মেলা। কনকচাঁপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে রমনা পার্কে চলে আসুন। পাকের্র নার্সারির খুব কাছাকাছিই রয়েছে গাছটি। তা ছাড়া শিশু একাডেমী বাগানের গাছটিও খুব সহজেই নজর কাড়ে।
কনকচাঁপা মাঝারি ধরনের গাছ। আড়াই মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। ডালপালা কিছুটা ছড়ানো। পাতা লম্ব-ডিম্বাকার, তরঙ্গায়িত। ফুল ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার চওড়া, পাপড়ির সংখ্যা ১২। ফুল ঝরে গেলে লালচে গোলাকার ফল হয়। ফল একক বা গুচ্ছ হতে পারে, যা গাঢ় হলদে বৃত্তাংশ দ্বারা আবৃত। কাঠ শক্ত, লাল-বাদামি রঙের। কলম বা বীজ থেকে চারা করা যায়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ কনকচাঁপার আদিনিবাস। কনকচাঁপার ওষুধি গুণও রয়েছে। এর শেকড় সর্প দংশনের প্রতিষেধক। হজমের সমস্যায় বাকল এবং ক্ষতের চিকিৎসায় পাতার প্রলেপ উপকারে আসে।
বলধা গার্ডেনের সিবিলি অংশে একটি কনকচাঁপার গাছ ছিল, এখন নেই। সেই গাছটির চারা এনে শিশু একাডেমীর বাগানে লাগিয়েছিলেন নিসর্গী বিপ্রদাশ বড়ূয়া। আবার শিশু একাডেমীর গাছটির একটি চারা নিজের ঘরে কয়েক বছর সযত্নে লালন করে রমনা পার্কে রোপণ করেছিলেন অধ্যাপক
দ্বিজেন শর্মা। সেই সূত্রে রমনা পার্কের গাছটি বলধা গার্ডেনের গাছটির নাতনি। দ্বিজেন শর্মার লেখা থেকেই জানা যায়_ 'আমার টবে তো ওর ঘরসংসার হবে না, ওকে যথাস্থানে পাঠানো আবশ্যক। ফোন করলাম রমনা পার্কের অফিসে। তারা ঠাঁই দিতে রাজি।...... সবাই মিলে সেরা জায়গাটিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে চারাটি লাগানো হলো।'
কনকচাঁপা আমাদের অতি পুরনো ও প্রিয় ফুল। চমৎকার ও আকর্ষণীয় সৌন্দর্যে এটি নিসর্গের শোভা বৃদ্ধি করে। মূলত পাহাড়ি ফুল হলেও সমতলে দু'চারটি গাছ থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। শীতের রুক্ষতা অন্য সব গাছের মতো কনকচাঁপাকেও স্পর্শ করে। তখন গাছের সব পাতা ঝরে যায়। পাতাহীন ডালে কেবল শূন্যতার রোদন। বসন্তের শুরুতেই কনকচাঁপা যেন নতুনভাবে জেগে ওঠে। গাছের শাখা-প্রশাখা কচি তামাটে পাতায় ভরে ওঠে। গুচ্ছ গুচ্ছ কচি পাতা দখিনা বাতাসে দোল খায়। সেই সঙ্গে ফুটতে শুরু করে অসংখ্য ফুল। কুঁড়ির রহস্য ভেদ করে নতুন পাতার ফাঁকে ফাঁকে হেসে ওঠে উজ্জ্বল হলুদ রঙের ফুলগুলো। সারা গাছ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। কনকচাঁপার পাপড়িগুলো তখন যেন সোনা রঙের দ্যুতি ছড়ায়। তার সঙ্গে মিষ্টি সৌরভ ভেসে বেড়ায় বসন্তের আলুথালু বাতাসে। মধুর লোভে ছুটে বেড়ায় মৌমাছি ভোমরার দল। কনকচাঁপার অপূর্ব রূপ আর সুবাসে মোহিত হয়ে কবিগুরুর মতো আমরাও গেয়ে উঠি_ কনকচাঁপার গন্ধ-ছোঁওয়া বনের অন্ধকারে.........।
থোকায় থোকায় অজস্র ফুল ফুটলেও খুব বেশি দিন থাকে না। বসন্তের সি্নগ্ধ সকালে কনকচাঁপার অপার সৌন্দর্য আমাদের মোহিত করে। বেলা একটু গড়ালেই রৌদ্রতাপে নেতিয়ে পড়ে ফুলগুলো। বিকেলে গাছতলায় বসে ঝরা ফুলের মেলা। কনকচাঁপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে রমনা পার্কে চলে আসুন। পাকের্র নার্সারির খুব কাছাকাছিই রয়েছে গাছটি। তা ছাড়া শিশু একাডেমী বাগানের গাছটিও খুব সহজেই নজর কাড়ে।
কনকচাঁপা মাঝারি ধরনের গাছ। আড়াই মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। ডালপালা কিছুটা ছড়ানো। পাতা লম্ব-ডিম্বাকার, তরঙ্গায়িত। ফুল ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার চওড়া, পাপড়ির সংখ্যা ১২। ফুল ঝরে গেলে লালচে গোলাকার ফল হয়। ফল একক বা গুচ্ছ হতে পারে, যা গাঢ় হলদে বৃত্তাংশ দ্বারা আবৃত। কাঠ শক্ত, লাল-বাদামি রঙের। কলম বা বীজ থেকে চারা করা যায়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ কনকচাঁপার আদিনিবাস। কনকচাঁপার ওষুধি গুণও রয়েছে। এর শেকড় সর্প দংশনের প্রতিষেধক। হজমের সমস্যায় বাকল এবং ক্ষতের চিকিৎসায় পাতার প্রলেপ উপকারে আসে।

২৫ এপ্রিল ২০১২ দৈনিক সমকাল-এ প্রকাশিত
উত্তরমুছুন